গতকাল ঘূর্ণিঝড় যশ আছড়ে পড়েছিল পূর্ব ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের সামুদ্রিক উপকূলে। মঙ্গলবার রাত থেকেই ভরা কোটাল এবং তার সাথে ঝড়ের প্রভাবে উপকূলের একাধিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গ্রামের পর গ্রাম ডুবেছে জলের তলায়। একাধিক এলাকায় নদী বাঁধ ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আজ নবান্নে বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে একটি বৈঠক করে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব জানিয়েছেন। সেই সাথে মুখ্যমন্ত্রী আজ ঘোষণা করেছেন যে আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার তিনি হিঙ্গলগঞ্জ, সাগর এবং দীঘার দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করবেন। সেইসাথে তিনি এও জানিয়েছেন যে আগামীকাল দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদির সাথে কলাইকুন্ডলাতে মুখ্যমন্ত্রীর একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক হবে।
আগের বছরের আম্ফান এর মতই রাজ্য সরকার আবারও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াবে যারা ঘূর্ণিঝড় এর জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে দুয়ারে সরকার মডেলে এবার দুয়ারে ত্রাণ পরিষেবা দেবে রাজ্য সরকার। সেইজন্য আগামী ৩ জুন থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত চলবে দুয়ারে ত্রাণ প্রকল্প। এই সময় প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকারি আধিকারিকরা শিবিরে বসবেন। সেখানেই সাধারণ মানুষ তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাবে। তারপর রাজ্য সরকারের রেইকির পর আগামী ১ লা জুলাই থেকে ৮ জুলাইয়ের মধ্যে প্রত্যেক ঝড় কবলিত মানুষের ব্যাংক একাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে। এই কাজের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে আজকের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উড়িষ্যা ও অন্ধ্রপ্রদেশকে কেন্দ্র সরকারের ৬০০ কোটি ও বাংলাকে ৪০০ কোটি দেওয়ার বিষয়ে সরব হয়েছেন। এত বড় রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও বাংলাকে কম টাকা দেওয়ার জন্য কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেছেন, “রাজ্যের যশ ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। চারিদিকে ফসল, জমি নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক মাছ মরে ক্ষতি হয়েছে। একাধিক গ্রাম জলে প্লাবিত হয়েছে। লক্ষাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” তবে এবার আগামীকাল নরেন্দ্র মোদি দুর্ঘটনাগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর আর্থিক প্যাকেজ বৃদ্ধি করে নাকি, সেটাই দেখার।
from রাজ্য – Bharat Barta https://ift.tt/3yHP2Vu
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন