এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: যাত্রী পরিষেবার বড় পদক্ষেপ ভারতীয় রেলের। ট্রেনে সফরের সময় সঙ্গে থাকা লাগেজ নিয়ে দুশ্চিন্তার দিন এবার হয়তো শেষ হতে চলেছে। যাত্রীর লাগেজ বাড়ি থেকে স্টেশনে নিয়ে যাওয়া বা স্টেশন থেকে লাগেজ বাড়ি পৌঁছে দেওয়া- সব কিছুর ব্যবস্থা করবে রেল। আর এই পরিষেবা পাওয়া যাবে খুবই সহজে। দূরপাল্লার ট্রেনে সফরের সময় অধিকাংশ যাত্রীর সঙ্গে কম-বেশি লাগেজ থাকে। লাগেজ নিয়ে অনেক সময় রাস্তায় নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হয় আম আদমিকে। আর বড় বা একাধিক লাগেজ হলে ভোগান্তি বাড়ে। বাড়ি থেকে লাগেজ নিয়ে স্টেশনে পৌঁছন বা স্টেশনে নামার পরে বাড়ি পর্যন্ত ফেরা- দু'টোই অনেক ক্ষেত্রে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষত, সবথেকে বেশি সমস্যার মধ্যে পড়েন প্রবীণ নাগরিক, অসুস্থ ব্যক্তি, একলা মহিলা এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা। আধুনিক সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতীয় রেলের তরফে যে পরিকল্পনা করা হয়েছে তাতে অন্তত লাগেজ নিয়ে যাত্রীদের এই দুর্ভোগ আর বেশি দিন হয়তো পোহাতে হবে না। চালু হতে চলেছে নামে এক বিশেষ পরিষেবা। উত্তর রেলের তরফে জানানো হয়েছে, অ্যাপ ভিত্তিক এই পরিষেবায় রেল যাত্রীদের লাগেজ বাড়ি থেকে সংগ্রহ করে স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে দেবে। একইভাবে স্টেশনে পৌঁছনো লাগেজ বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছনোর দায়িত্বও নেবে তারাই। পরিবর্তে সামান্য কিছু টাকা চার্জ হিসেবে দিতে হবে যাত্রীকে। দূরত্ব, লাগেজের ওপর এবং মাপের ভিত্তিতে স্থির হবে চার্জ। গোটা পরিকল্পনার প্রাথমিক নকশা ইতোমধ্যে তৈরি হয়ে গিয়েছে। খুব শিগগির BOW অ্যাপ লঞ্চ করতে চলেছে রেল। অ্যান্ড্রয়েড এবং iOS উভয় প্ল্যাটফর্মে এই অ্যাপ উপলোব্ধ থাকবে। খুব শিগগির ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এই প্রথম এমন পরিষেবা চালু হতে চলেছে বলে জানিয়েছেন রেলের কর্তারা। আরও পড়ুন: আপাতত উত্তর রেলের দিল্লি ডিভিশনে চালু হতে চলেছে এই 'Bags on Wheels' পরিষেবা। নিউ দিল্লি, দিল্লি জংশন, হজরত নিজামুদ্দিন, দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট, দিল্লি সরাই রোহিল্লা, গাজিয়াবাদ এবং গুরুগ্রাম স্টেশন থেকে যে সমস্ত যাত্রীরা ট্রেনে চড়বেন প্রাথমিকভাবে তাঁরাই এই পরিষেবার সুযোগ পাবেন। এটি জনপ্রিয় হলে পরবর্তী সময়ে অন্যান্য স্থানেও তা চালু করা হবে বলে খবর। আরও পড়ুন: এমনিতে ভারতীয় রেলের আর্থিক অবস্থা মজবুত নয়। বহু আগেই 'ভেন্টিলেশনে' চলে গিয়েছে দেশের বৃহত্তম গণপরিবহন ক্ষেত্র। আয় এবং খরচের ব্যস্তানুপাতিক সম্পর্কের ভিত্তিতে কোনও সংস্থার অপারেটিং রেসিও নির্ধারিত হয়। ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে রেলের অপারেটিং রেসিও ছিল ৯৭.৩ শতাংশ। অর্থাৎ ১০০ টাকা আয় করতে গিয়ে রেলকে খরচ করতে হয়েছে ৯৭ টাকা ৩০ পয়সা। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক ঝিমুনি এবং কোভিড লকডাউনের কারণে রেলের আয় তলানিতে এসে ঠেকেছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প পদ্ধতিতে রেলের আয় বাড়ানোর উপরে প্রথম থেকেই জোর দেওয়া হচ্ছে। কিছুদিন আগে রেলের ইঞ্জিনের গায়ে পড়েছে বিজ্ঞাপন। Bags on Wheels পরিষেবার মাধ্যমে রেলের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নত যাত্রী পরিষেবার লক্ষ্য পূরণ হবে বলেও রেলের কর্তারা জানিয়েছেন। এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট ।
from Business News in Bengali, Latest Bangla Business News, Financial News - Eisamay https://ift.tt/2TmsPJ3
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন