নিউজ ডেস্ক: বা ও মা দু’জনেই অন্যের জমিতে কাজ করেন। তাও আবার প্রতিদিন কাজ মেলে না। কাজ মিললে দৈনিক ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হয়। নিজেকেও মাঠে নেমে কাজ করতে হয় যাতে সংসারে কিছু টাকা অতিরিক্ত আসে। এরই মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিকে চমকপ্রদ ফল করল গাজোলের বামনগোলার মেয়ে পূজা মাহাত। উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৬৯ নম্বর পেয়ে সকলকে চমকে দিয়েছে পূজা। এবারে নালাগোলা হীরালাল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল পূজা।
দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে পূজার প্রাপ্ত নম্বর বাংলায় ৯০, ভূগোলে ৯৪, দর্শনে ৯৫, সংস্কৃতে ৯৫ ও এডুকেশনে ৯৫। শতাংশের হিসাবে ৯৩.৮। এরপর উচ্চ শিক্ষিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই পূজা। কিন্তু সেই স্বপ্নে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রবল দারিদ্রতা। মেয়ের জন্য সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাছে সাহায্য চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছেন পূজার বাবা।
এই ব্যাপারে পূজা বলেন, আমরা খুবই গরিব। বাবা-মা অনেক কষ্ট করে আমাকে এতদূর নিয়ে এসেছেন। আমিও মাঠে নেমে চাষের কাজ করেছি। উচ্চশিক্ষার জন্য কলেজে ভর্তি হতে অনেক টাকার দরকার। কিভাবে এই জোগাড় হবে? বাবা-মা এত টাকা কোথায় পাবেন? সেটাই এখন বুঝতে পারছি না। তাই ভালো ফল করেও চিন্তা হচ্ছে।

নালাগোলা হীরালাল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেখা দুবে ছাত্রীর সাফল্যের বিষয়ে, বলেন, পূজা মাহাত আগাগোড়াই অত্যান্ত মেধাবী পড়ুয়া। দারিদ্র্যতার সঙ্গে লড়াই করে ও খুব পরিশ্রম করে। পূজা উচ্চশিক্ষিত হোক, পরিবারের পাশে থাকুক, এটাই চাইব। ওর পড়াশুনার জন্য স্কুলের পক্ষ থেকে সকলে মিলে সাধ্যমতো সাহায্য করব।
বাবা গুরুচরণ মাহাত বলেন, মেয়ে ভালো রেজাল্টে খুব খুশি হয়েছি। আমি মেয়েকে কলেজে ভর্তি করানোর চেষ্টা করব। তবে দু’বেলা ভাত জোগাড় করাটাই আমাদের কাছে বড় সমস্যা। তার উপর এখন আবার মেয়ের পড়ার খরচ জোগাড় করা। আমরা সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাছে সাহায্যপ্রার্থী।
The post বাবা-মায়ের সঙ্গে মাঠে নেমে চাষ করতে হয়, তার মধ্যেই উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৬৯ নম্বর পেয়ে সবাইকে চমকে দিল পূজা appeared first on বিশ্ব বার্তা.from হেড লাইনস – বিশ্ব বার্তা https://ift.tt/2ZSKQTx
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন