লকডাউনে বাজার বেড়েছে লোকাল ব্র্যান্ডের বিস্কুটের - Get Breaking & Latest Bengali News Online

Breaking

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২০

লকডাউনে বাজার বেড়েছে লোকাল ব্র্যান্ডের বিস্কুটের

সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায় লকডাউনে কপাল খুলেছে স্থানীয় বিস্কুট প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির। হোর্ডিং লাগিয়ে, টিভিতে বিজ্ঞাপন দিয়েও যারা এতদিন ক্রেতা পেত না বহুজাতিক সংস্থাগুলির প্রতিযোগিতায়, লকডাউন তাদের সামনে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছনোর অনন্য সুযোগ এনে দিয়েছে। সোনা বিস্কুট লিমিটেড বা সোবিসকো-র ডিরেক্টর (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) মহেশ আগরওয়ালের কথায়, ‘লকডাউনের সময় বিস্কুটের মতো প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের বিপুল চাহিদা স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলির সামনে নতুন পথ খুলে দিয়েছে --- ২০ শতাংশ চাহিদা বেড়েছে। স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলি এতে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে পারে। ‘তবে, লকডাউন পর্বে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলি সাধারণের যে চাহিদা পূরণ করেছিল তা কতটা স্থিতিশীল থাকে সেটাই এখন দেখার। অবশ্য, নতুন গ্রাহকদের একটা অংশ আমরা ধরে রাখতে পারব বলেই বিশ্বাস।’ মহেশ আরও বলেন, ‘মাথায় রাখতে হবে ব্রিটানিয়া সমেত দেশের বড় বিস্কুট প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিও এপ্রিল-মে মাসে সব থেকে বেশি উৎপাদন করেছে। অন্য সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি উৎপাদন করেছে সংস্থাগুলি।’ কলকাতার আর এক সংস্থা রাজা বিস্কুট সংস্থার সঞ্জয় চক্রবর্তী জেনারেল ম্যানেজার (সেলস) বলেন, ‘আগে বিজ্ঞাপন-হোর্ডিং দিয়েও যে জায়গাগুলিতে ঢুকতে পারিনি, লকডাউনে সেই জায়গাগুলিতেই আমাদের বিস্কুট বিক্রি হয়েছে। আগে যে সমস্ত ক্রেতা আমাদের বিস্কুট ছুঁয়েই দেখতেন না, লকডাউন পর্বে আমাদের বিস্কুট কিনে উপলব্ধি করেছেন, যে গুণমানের দিক দিয়ে রাজার বিস্কুট অন্য কোনও ব্র্যান্ডের তুলনায় খারাপ নয়। আর তাই আমরা নতুন রিপিট কাস্টমার দেখতে পাচ্ছি।’ গত দু’মাসে বেশ কিছু নতুন বাজারে রাজা বিস্কুটের বিক্রি বেশ ভালো বেড়েছে বলে দাবি সঞ্জয়ের। অ্যাম্বো এগ্রিটেকের (সানি বিস্কুট) ডিরেক্টর উমেশ আগরওয়ালও সমান আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘লকডাউন খোলার দু’-তিন মাস পরও বহু দোকানেই পর্যাপ্ত জোগান থাকবে না। খরচ কমাতে বড় প্যাকেট তৈরিতেই জোর দিচ্ছি। বড় সংস্থাগুলি তাদের অতিরিক্ত উৎপাদন ছোট প্যাকেটে ভরে বাজারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। ছোট সংস্থাগুলির ব্যবসা নষ্ট করে কোনও লাভ হওয়ার নেই। করোনা পরিস্থিতি সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। বাজারে যখন বড় সংস্থার পণ্য পাওয়া যাচ্ছিল না তখন আমাদের পণ্যই ক্রেতাদের চাহিদা মিটিয়েছে।’ বড় সংস্থাগুলি কম মার্জিনে পণ্য দেওয়ায় বিক্রেতারা অপেক্ষাকৃত বেশি মার্জিন দেওয়া স্থানীয় ব্র্যান্ডের বিস্কুট বিক্রির বিষয়ে উদ্যোগী হবে বলেই আশা উমেশের। বর্তমানে বড় সংস্থাগুলি তাদের বড় প্যাকেটের দাম ১০ টাকা থেকে ১২ টাকা পর্যন্ত বাড়ালেও স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলি দাম বাড়ায়নি, দাবি তাঁর। এ প্রসঙ্গে আমুলের বাটার বিস্কুট তৈরির কথা তুলে তিনি বলেন, ‘এই ক্ষেত্রে সংস্থাটি প্রবেশ করলেও দাম এবং গুণমান দুইয়ের দিক দিয়েই ভালো। কিন্তু, অন্য বড় সংস্থাগুলি অনেকাংশেই গ্রাম এবং মফস্বলের বাজার ধরতে গিয়ে ছোট প্যাকেটের যে বিস্কুট তৈরি করে তাতে প্রকৃত গুণমান বজায় থাকে না।’ ব্যবসার বিস্তারের ততটা আশাবাদী নন ভগবতী ফুডসের ডিরেক্টর বিনোদ আগরওয়াল। তাঁর মতে, ‘ব্রিটানিয়ার মতো সংস্থা গত দু’মাসে উৎপাদন প্রচুর বাড়িয়েছে। কাজেই স্থানীয় ব্র্যান্ড খুব সহজে যে বাজার ধরতে পারবে তা নয়। তবে, চাহিদার তুলনায় জোগান কম হওয়ায় সেই জায়গাটা স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলি পূরণ করার ভালো সুযোগ রয়েছে।’ আনমোল ইন্ডাস্ট্রিজের ব্র্যান্ড ম্যানেজার রচিত চৌধুরি ব্যাখ্যা ভিন্ন। তিনি জানান, চাহিদার সময় ক্রেতারা কিছু না পেয়ে স্থানীয় ব্র্যান্ডের পণ্য কিনলেও তা দীর্ঘমেয়াদি ক্রেতা তৈরি করবে কি না তা সময়ই বলবে। রচিত বলেন, ‘লকডাউনে স্থানীয় সংস্থাগুলির বিস্কুটের বিপুল চাহিদা তৈরি হলেও ততটা জোগান নেই। বড় সংস্থাগুলির তাদের উৎপাদন পুরোদমে শুরু করলে ধীরে ধীরে সেই চাহিদা কমে আসবে। তখন স্থানীয় ব্র্যান্ডের প্রতি ক্রেতাদের বিশ্বস্ততা থাকবে কি না তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব ব্র্যান্ড পরিচিতি বাড়ানোর এবং নতুন বাজারে ঢোকার সুযোগ রয়েছে স্থানীয় সংস্থাগুলির সামনে।’


from Business News in Bengali, Latest Bangla Business News, Financial News - Eisamay https://ift.tt/2MJ9nTr

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন