মুখ ঢেকেছে মাস্কে, রূপটানের বাজারে ‘ব্রাত্য’ লিপস্টিক - Get Breaking & Latest Bengali News Online

Breaking

বুধবার, ১০ জুন, ২০২০

মুখ ঢেকেছে মাস্কে, রূপটানের বাজারে ‘ব্রাত্য’ লিপস্টিক

সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায় করোনা ছোঁয়াচ বাঁচাতে নারী-পুরুষ, ছেলে-বুড়ো সকলেই এখন মাস্ক পরছেন। সংক্রমণ কমে গেলেও জাপানের মতো ভারতেও মাস্ক পরার চল রয়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। লকডাউন উঠে গেলেও অফিস-কাছারি, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, শপিং মল, সিনেমা হল, বাসে-ট্রেনে সব জায়গায় মাস্ক পড়ার বাধ্যবাধকতা থাকবেই। ইতিমধ্যেই যে সমস্ত অফিস খোলা হয়েছে সেখানে কর্মীদের স্যানিটাইজার ব্যবহার করা এবং অফিসে থাকাকালীন মাস্ক পড়ে থাকার নিদান দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তিত ব্যবস্থায় মহিলাদের রূপটানের তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে লিপস্টিক, নেলপালিশ। লিপস্টিকের বিক্রি যে কমবে সে বিষয়ে একমত শহরের কসমেটিক্স এবং প্রসাধন সামগ্রী বিক্রেতা সংস্থাগুলি। ল্যাকমে মনে করছে, তাদের লিপস্টিক বিক্রি ২০-৪০ শতাংশ কমবে। একই মত, এল ১৮-এর মতো ব্র্যান্ডের লিপস্টিক প্রস্তুতকারী সংস্থা হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের ডিস্ট্রিবিউটরদেরও। হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের ল্যাকমে ব্র্যান্ডের এক ডিস্ট্রিবিউটর সংস্থার আধিকারিক অসিত দাসের কথায়, ‘স্বাস্থ্যসুরক্ষার জন্য মাস্কের ব্যবহার বজায় থাকবে এবং সেটাই কাম্য। এই পরিস্থিতিতে লিপস্টিকের বিক্রি কমবে, সন্দেহ নেই। তবে, নেলপালিশের বিক্রি হয়তো খুব বেশি কমবে না বলেই আমাদের অনুমান। কেননা, সকলে মাস্ক পরলেও সবাই গ্লাভস পড়ছেন না।’ কলকাতায় জওহরলাল নেহরু রোডের প্রসাধনী বিক্রেতা জয়সওয়াল স্টোর্সের বিবেক জয়সওয়াল অবশ্য মনে করেন, ‘লিপস্টিক এবং নেলপালিশ, দুইয়ের বিক্রিই কমবে।’ তাঁর ধারণা, আইলাইনার এবং কাজলের বিক্রি বাড়তে পারে। এ নিয়ে আরও ব্যাখ্যা দেন বালিগঞ্জের বন্ডেল রোডে মেকওভার কসমেটিক্সের কর্ণধার রিঙ্কি শ’। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ লকডাউনে কেউই বাড়ি থেকে বের হননি, তাই লিপস্টিকের বিশেষ প্রয়োজন পড়েনি। তবে, অফিস-কাছারি খুললেও খুব একটা ব্যতিক্রম হবে না। আমরাও লিপস্টিকের পুশ সেলিং বন্ধ রেখেছি। ল্যাকমে, রেভলনের ডিস্ট্রিবিউটররাও লিপস্টিকের বিক্রি কমতে পারে বলে জানিয়েছেন এবং পুশ সেলিং বন্ধ রাখতে বলেছেন।’ রিঙ্কি বলেন, ‘তবে, কাজল এবং আইলাইনারের বিক্রি কমবে না এটুকু বলতে পারি।’ তিনি জানান, এই মুহূর্তে মহিলাদের মধ্যে সানস্ক্রিন লোশন, ময়শ্চারাইজারের চাহিদা বেশি। কেশব রিটেলের সুরঙ্গমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘মহিলাদের রূপটানের একটা বড় অংশ লিপস্টিক। সেখানে ঠোঁট ভিজে রাখার জন্য লিপগ্লসের ব্যবহার করে মাস্ক পড়ার প্রচলন বাড়বে। আর হাইলাইট করার জন্য মাস্ক ঢাকা মুখের খোলা অংশের মধ্যে পড়ে রইল চোখ। সেটাই আরও যত্ন নিয়ে সাজাতে আইলাইনার, কাজল, মাস্কারার ব্যবহার এবং বিক্রি বাড়বে।’ দমদম রোডের নিউ দে ভ্যারাইটি স্টোর্সের বিশ্বজিৎ দে অথবা বি কে পাল এভিন্যুর পায়েল বিপণির বাসুদেব শ’ বা নোয়াপাড়ার খুশি বিউটি কালেকশনের শশীকান্ত শর্মা, প্রত্যেকেই নিশ্চিত, লিপস্টিকের বিক্রি ২০-৩০ শতাংশ কমবে। লিপস্টিকের শেড পছন্দের জন্য ক্রেতার হাতে লাগিয়ে তা পরখ করে দেখার প্রক্রিয়া বন্ধ করেছে দোকানদারেরা। ভবিষ্যতেও আর তা করা হবে না। দূর থেকে শেড পছন্দ করেই লিপস্টিক কিনতে হবে। নেলপালিশের ক্ষেত্রেও তাই। কোনও ‘ডামি’ রাখা হচ্ছে না এবং হবেও না। ছোঁয়াচ এড়াতেই এই ব্যবস্থা। তবে, সেলফি, ফেসবুক, টিকটকের যুগে লিপস্টিকের বিক্রি এতোটা কমবে না বলেই মনে করেন গৌরাঙ্গনগরের সাজঘর বিপণির উত্তম রায়। তিনি বলেন, ‘ছোট-বড় সব বয়সের মহিলারাই টিকটক এবং ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় সেজেগুজে নিজেদের ছবি পোস্ট করা পছন্দ করেন। সে ক্ষেত্রে বাড়ির বাইরে মাস্ক পড়লেও ঘরে লিপস্টিক পরতেই পারেন।’


from Business News in Bengali, Latest Bangla Business News, Financial News - Eisamay https://ift.tt/2MN5Xz4

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন