পরোটায় ১৮%, রুটিতে ৫% জিএসটি! কর ব্যাখ্যায় মুখর নেটিজেনরা - Get Breaking & Latest Bengali News Online

Breaking

শনিবার, ১৩ জুন, ২০২০

পরোটায় ১৮%, রুটিতে ৫% জিএসটি! কর ব্যাখ্যায় মুখর নেটিজেনরা

এই সময়: ‘মিছা কেন কুল নিয়া কর আঁটাআঁটি, এ যে কুল কুল নয় সার মাত্র আঁটি…কুলকল্পে নয় রূপ সুলক্ষণ যাহা, অবশ্য প্রামাণ্য করি শিরোধার্য তাহা।’ ভাগ্যিস ঈশ্বর গুপ্ত বেঁচে নেই। তা না হলে শুধু তাপমাত্রার ভেদে রুটি-পরোটার কর-কৌলীন্যের বিচার হয়তো তাঁর কোর্টে গিয়েই থামত! ঘটনার প্রেক্ষিত কিছুটা এ রকম। কর্নাটকের এক রেডি-টু-কুক ফুড প্রোডাক্ট সংস্থা ‘আইডি ফ্রেশ ফুড’ দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্যের অথরিটি অফ অ্যাডভান্সড রুলিং (কর্নাটক বেঞ্চ)-এর। নিতান্তই নিরীহ আর্জি ছিল তাদের। যে জিএসটি’র মাপকাঠিতে পরোটাকে কি খাদ্যগত ভাবে খাখড়া, সাধারণ চাপাটি বা রুটির গোত্রে ফেলা অনুচিত হবে? সেক্ষেত্রে রুটির মতো ৫ শতাংশ হারে জিএসটি দিয়েই তাদের জনপ্রিয় আইটেম ‘মালাবার পরোটা’ এবং ‘হোল-হুইট পরোটাকে’ বেচতে পারত সংস্থা। কিন্তু গোল বাঁধল বেঞ্চের রায়ে। কর্তৃপক্ষ ‘যুগান্তকারী’ এক রায়ে সম্প্রতি জানিয়ে দিয়েছেন, পরোটা ‘রেডি-টু-কুক’ ফুড নয় মোটেই। খাখড়া, সাধারণ চাপাটি বা রুটি, সবই প্যাকেটবন্দি হয়ে এলেও তাদের প্যাকেট খুলেই খাওয়া সম্ভব। ফলে কাস্টমস ট্যারিফ অ্যাক্ট, ১৯৭৫ মেনে শুধুমাত্র তাদেরই রেডি-টু-কুক ফুডের আওতায় ফেলা সম্ভব। রুটির মতোই প্যাকেটবন্দি হয়ে এলেও পরোটাকে যেহেতু খাওয়ার আগে গরম করতেই হয়, তাই আইন বলে তাকে রুটির গোত্রে ‘নামিয়ে’ আনা সম্ভব নয় মোটেই। নিজেদের যুক্তির সমর্থনে বেঞ্চের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এন্ট্রি৯৯এ (রেট নোটিফিকেশন আন্ডার জিএসটি ল) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া আছে, রুটি বা চাপাটি আমজনতার খাদ্য। তাই তার জন্য কম হারে (৫%) জিএসটি বসানো রয়েছে। কিন্তু জিএসটি বিধির বাঁধনে যেখানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, যে ময়দা বা কোকো-মল্টের তৈরি যে কোনও ফুড প্রিপারেশনই ১৮% করের আওতায় আসবে, তাই রুটি এবং পরোটাকে কোনও ভাবেই একাসনে বসানো যাবে না। আইন অবশ্যই আইনের পথে চলবে। কিন্তু এই রায়ের কথা জানাজানি হতেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং ইন্টারনেট ভরে গিয়েছে ‘১৮% পরোটা’ সংক্রান্ত অসংখ্য সমালোচনা-মিমে। যেমন টুইটারে কারও প্রশ্ন, ‘পরোটা প্যাকেট খুলে গরম না করে খাওয়া গেলে কি রুটি-পরোটাকে করের একই গোত্রে ফেলা যাবে?’ আবার অন্যজনের উক্তি ‘করোনা, লকডাউন, অর্থনীতি, মন্দা ছাপিয়ে দেশের কর-কর্তৃপক্ষের সামনে এখন জ্বলন্ত প্রশ্ন, ঠাণ্ডা পরোটা বেচে ৫% কর দিলে কি তাকে ফাইন দিতে হবে?’ কারও দাবি, ‘বাবুরা ছাড়া দেশের অনেক গরিব মানুষ পরোটা গরম না করেই খেতে পারে। আমলাতন্ত্রের লাল ফিতের ফাঁস তৈরি এই জন্যই। প্রথমে কর-কাঠামোয় হাজারো ধারা-উপধারা, ফাইনপ্রিন্টস তৈরি করে রাখো। তারপর রুটি-পরোটা নিয়ে দেশের মধ্যে বিতর্ক তুলে দাও। ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস, মাই ফুট।’ এক ধাপ এগিয়ে পরবর্তী সরল প্রশ্নও উঠে পড়েছে। যেখানে প্রশ্ন করা হয়েছে, রুটি-পরোটায় প্রভেদ থাকলে নান-কুলচার ক্ষেত্রে জিএসটি হার এখনই ঠিক করে ফেলাটাই কি বুদ্ধিমানের কাজ নয়? কারণ চিজ গার্লিক বাটার তন্দুরি এবং মাটন কিমা পরোটা লাইনে তাড়া দিচ্ছে বাকিদের। বাটার নান-পুরীরও সেক্ষেত্রে জাত্যাভিমানে ধাক্কা লাগতে পারে এই সরকারি ফরমানে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সংস্থার প্রাক্তন সদস্য রথীন রায় অবশ্য টুইটারে জানিয়েছেন, এই দ্বিধা ভারতের একার নয়। নব্বইয়ের দশকে ব্রিটেন বা ২০০০-এর শুরুর দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্যান্ডুইচ বিক্রির সময় গরম করে দিতে হলে তার উপর ভ্যাট চাপানো হত। ঠাণ্ডা এমনিই কেনা যেত। শেষ কথা অবশ্য জানিয়েছেন মাহিন্দ্রা গোষ্ঠীর কর্ণধার আনন্দ মাহিন্দ্রা স্বয়ং। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘দেশের সামনে এখন এমনিতেই অনেক সমস্যা। তার উপরে এই পরোটা সমস্যা আমাকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। তবে ভারতবাসীর জুগাড় ক্ষমতা এতটাই ভালো যে আমি নিশ্চিত, খুব শীঘ্র তারা ‘পরোটি’ বানিয়ে প্রশাসনকে পাল্টা প্রশ্নের মুখে ফেলবে।’ অপেক্ষা করুন। পরোটি, রোটি-সোঠি, পুরী, ভাজি…লাইন সবে শুরু।


from Business News in Bengali, Latest Bangla Business News, Financial News - Eisamay https://ift.tt/30JGfUe

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন