এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: কথায় আছে, ‘একে রামে রক্ষা নেই সুগ্রীব দোসর’। দুই ভাইরাসের জ্বালায় অতিষ্ঠ দেশবাসী। এক ভাইরাস ‘করোনা’র থাবায় যাচ্ছে অসংখ্য প্রাণ। সংক্রমণ এড়াতে ঘরবন্দি থেকে অনলাইনেই ব্যাঙ্কিংয়ের কাজ করবেন? রক্ষা নেই। সেখানেও থাবা বসিয়েছে আর এক ভাইরাস---সারবেরাস। কোভিড-১৯ এর সাম্প্রতিক খবর দেওয়ার লোভ দেখিয়ে একটি ম্যালওয়্যার ইউআরএল লিঙ্ক এসএমএসের মাধ্যমে স্মার্টফোনের অসংখ্য গ্রাহককে পাঠাচ্ছে হ্যাকাররা। যেখানে ক্লিক করলেই ‘ট্রোজান’ গোত্রের এই ভাইরাস আপনার মোবাইলে ঢুকে পড়ছে। তারপর থেকে মোবাইলে করা অনলাইন ব্যাঙ্কিং এবং ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের তথ্য আপনার অজান্তেই চলে যাচ্ছে হ্যাকারদের কাছে। খোদ ইন্টারপোলের থেকে এই বিষয়ে তথ্য পেয়ে রাজ্য প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সতর্ক করে দিয়েছে সিবিআই কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে এক নির্দেশিকাও প্রকাশ করেছে তারা। যেখানে জানানো হয়েছে, ‘দেশে মারণ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ/প্রকোপ সংক্রান্ত খবর জানতে আগ্রহ রয়েছে সবারই। সেই আগ্রহকেই কাজে লাগিয়ে সাম্প্রতিক খবর ডাউনলোড করার লোভ দেখিয়ে একটি লিঙ্ক স্মার্টফোনে পাঠানো হচ্ছে। তাতে ক্লিক করলেই মোবাইলের মেমোরিতে ডাউনলোড হয়ে যাচ্ছে ট্রোজানের এই নবতম ভাইরাস, যা মূলত নেটব্যাঙ্কিং এবং ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি করে নিচ্ছে গ্রাহকের অজান্তেই।’ বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে, যখন ইন্টারপোলের তরফে জানানো হয়েছে, টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশনের নিরাপত্তা থাকায় যাঁরা নিশ্চিন্ত থাকছেন বা ভাবছেন ‘সিভিভি’ কোডের গোপনীয়তা তাঁদের বাঁচিয়ে দেবেন, তাঁদেরও রক্ষা নেই। নতুন এই ভাইরাস স্মার্টফোন থেকে অনায়াসে সে সবও চুরি করে নিচ্ছে। যা দিয়ে অনায়াসেই আপনার ব্যাঙ্ক এবং কার্ড-তথ্য দিয়ে আর্থিক লেনদেন চালানো যাবে। এর পাশাপাশি, সাইবার হ্যাকাররা এই দুর্দিনে হাসপাতাল/নার্সিং হোম এবং স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে র৵ানসমওয়্যার হানা চালাতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়ে দেশের সব হাসপাতাল/নার্সিং হোম এবং স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বার্তা পাঠিয়েছে সিবিআই। যেখানে এই মুহূর্তে ব্যাপক কাজের চাপ এবং তথ্য থাকার জেরে, কোনও ভাবে সার্ভারে কব্জা করা গেলে র৵া নসম হিসেবে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিবিআই কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, গত মাসে ‘জুম’ ভিডিয়ো কনফারেন্সিং অ্যাপ নিয়ে একটি সতর্কতা জারি করেছিল কেন্দ্রীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সিইআরটি-ইন্ডিয়া। যেখানে জানানো হয়েছিল, এই অ্যাপের ব্যবহার ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ার সুযোগ নিচ্ছে হ্যাকাররা। জুম অনলাইন মিটিংয়ের ফাঁক গলে সার্ভারে ঢুকে পড়ে তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। তারপর থেকে সরকারি কার্যালয়ে নিষিদ্ধ হয়ে যায় জুম অ্যাপের ব্যবহার। বিশ্বেও যার ব্যবহার কমানো হয়েছে।
from Business News in Bengali, Latest Bangla Business News, Financial News - Eisamay https://ift.tt/3dZVCLR
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন