
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসকে মহামারী হিসেবে আগেই ঘোষণা করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’। এবার তারা জানিয়েছে ইউরোপ এই নোভেল করোনাভাইরাসের ‘এপিসেন্টার’ হয়ে উঠেছে। শুক্রবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনা ‘হু’-এর প্রধান টেডরোস জানিয়েছেন, বর্তমানে এই প্যানডেমিক বা মহামারী এপিসেন্টার বা উৎসস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউরোপ। টেডরোসের কথায়, চিনের পর বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ইউরোপেই সবচেয়ে বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও। তিনি বলেছেন, অন্যান্য দেশের তুলনায়, এমনকি চিনের থেকেও বেশি হারে এখন ইউরোপে করোনাভাইরাস আক্রান্তের হদিশ মিলছে প্রতিদিন।
গত ডিসেম্বরে প্রথম শোনা গিয়েছিল নোভেল করোনাভাইরাসের নাম। চিনের উহান শহর ছিল এই ভাইরাসের প্রাথমিক উৎসস্থল। এরপর ধীরে ধীরে এই ভাইরাস ত্রাস সৃষ্টি করেছে সারা বিশ্বজুড়ে। বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে মৃতের সংখ্যাও। মহামারীর আকার নিয়েছে করোনাভাইরাস। এএফপি-র একটি সমীক্ষা অনুসারে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৫০০০ জনের। সারা পৃথিবীতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার। ‘হু’-এর প্রধান টেডরোসের কথায়, করোনাভাইরাসের জেরে মৃতের সংখ্যা ৫০০০-এ পৌঁছে যাওয়া নিঃসন্দেহে অত্যন্ত দুঃখজনক, হতাশার এবং ভয়েরও।
ভবিষ্যতে এই মহামারীর গতিপ্রকৃতি কেমন হবে সেটা যে একেবারেই আগে থেকে অনুমান করা যাবে না সেকথা জানিয়েছেন, ‘হু’-এর ইমার্জেন্সি ডিজিজ ইউনিটের প্রধান মারিয়া ভ্যান কেরখোভে। তাঁর কথায়, সারা বিশ্বে নোভেল করোনাভাইরাস যে কী আকার নেবে সেটা বলা সত্যিই মুশকিল। হয়তো এর প্রভাবে অবস্থা আরও ভয়ানক হতে চলেছে। কিন্তু সেটা কবে হতে পারে সে ব্যাপারে কোনও আগাম সতর্কতা দেওয়া সম্ভব নয়।
চিনের উহান শহরের পর করোনাভাইরাস ক্রমশ ছড়িয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। ইতালি-ফ্রান্স ছাড়াও ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকেও পাওয়া আক্রান্ত এবং মৃতের খবর। এছাড়াও ইরান-দক্ষিণ কোরিয়া-ভারত-সহ একাধিক দেশে থাবা বসিয়েছে এই নোভেল করোনাভাইরাস। ‘হু’-এর প্রধান টেডরোসের কথায়, নির্দিষ্ট দেশে কোনও মহামারী বা রোগের ভয়াবহ রূপ দেখলেও অনেকসময় মনে করা হয় আরেকটি দেশে সেটা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এমন ভাবনাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। বিশ্বের প্রতিটি দেশেরই এখন উচিত ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করা। পরীক্ষা-নিরিক্ষা করা ভাইরাস আক্রান্তকে খুঁজে বের করা, তাঁর সঠিক চিকিৎসা করা। কোয়ারেন্টাইন করা এবং আইসোলেশনে রেখে পর্যবেক্ষণ করা—-এইসব কাজ একইসঙ্গে করতে হবে। অর্থাৎ খুঁজে বের করা, চিকিৎসা করা এবং ভাইরাসের সংক্রমণ রুখে দেওয়ার চেষ্টা—-সব একসঙ্গেই করা প্রয়োজন। কোনও একটা কাজে ফাঁক থাকলেই সমূহ বিপদের সম্ভাবনা থাকবে।
from TheWall https://ift.tt/2U2yB2E
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন