এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: পেঁয়াজের ঝাঁঝে জেরবার আম আদমি। ক্রমশ তা মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এর মধ্যে ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, আপাতত এর দাম কমার কোনও সম্ভাবনা নেই। উল্টে এই ফসলের দাম ক্রমশ বাড়বে। শুধু তাই নয়, এভাবে চলতে থাকলে দশমীর পরেই ১০০ টাকা কিলো দরে কিনতে হতে পারে সাধারণ মানুষকে। এমনই আগাম সতর্কবার্তা ব্যবসায়ীদের। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের ব্যখ্যা, বাজারে নতুন পেঁয়াজ ঢুকতে আরও অন্তত এক মাস বাকি আছে। এদিকে পুরনো স্টকও শেষ হওয়ার মুখে। ফলে চাহিদা মতো যোগানে টান পড়ায় স্বভাবিকভাবে চড়তে শুরু করেছে দাম। দেশের বৃহত্তম পেঁয়াজের পাইকারি বাজার নাসিকের লাসালগাঁও। সেখানে গতকাল প্রতি কুইন্টাল পেঁয়াজের দাম ৭,৮০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল; যা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এভাবে চলতে থাকলে আর কয়েক দিনের মধ্যে পাইকেরি বাজারে প্রতি কিলোর মূল্য ১০০ টাকা ছুঁতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের। রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ: গতকাল নাসিকের বাজারে প্রতি কুইন্টাল পেঁয়াজের নিলামের গড়ে দর ছিল ৭,১০০ টাকা। এর মধ্যে সবথেকে খারাপ মানের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১,৯০১ টাকা কুইন্টাল দরে। অন্যদিকে, সবথেকে ভালো পেঁয়াজের কুইন্টার প্রতি দর ছিল ৭ হাজার ৮১২ টাকা। এই দরে গতকাল ৭ হাজার কুইন্টাল পেঁয়াজ নিয়াম হয়েছে। সেখানকার ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, গত ১০ মাসের মধ্যে এদিনই প্রথম এত চড়া দরে পেঁয়াজ বিক্রি হল। গত ডিসেম্বর মাসে শেষবার পেঁয়াজের দাম এই স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল। তার পর থেকে এর দাম ক্রমশ কমতে থাকে। আরও পড়ুন: যে কারণে : পেঁয়াজের এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য় প্রকৃতির খামখেয়ালিপনাকে দায়ি করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, এ বছর বর্ষাকালের পরেও ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার ফলে জমিতে থাকা ফসলের ক্ষতি হয়েছে। শুধু মহারাষ্ট্র নয়, অকাল বর্ষণে মাথায় হাত কর্নাটকের কৃষকদেরও মাথায় হাত। দক্ষিণের এই রাজ্যেও জমিতেই পচে গিয়েছে পেঁয়াজ গাছ। এই ক'দিন আগেও ভারী বৃষ্টিপাত হয়। সেই বৃষ্টি ফসলের দফারফা করে দিয়েছে। তা না হলে এতদিনে কর্নাটকের পেঁয়াজ বাজারে চলে আসত। কবে পেঁয়াজের দাম কমবে: কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, অন্যান্য বছরে মহারাষ্ট্রের খারিফ পেঁয়াজ এতদিনে বাজারে আসতে শুরু করে দেয়। কিন্তু এবার নানা কারণে জমিতে ফসল বুনতে কিছুটা দেরী হয়েছে। যে কারণে আগামী মাসের মাঝামাঝি বাজারে নতুন পেঁয়াজ চলে আসবে। এমই অবস্থা মধ্যপ্রদেশের ক্ষেত্রেও। সেখানে আরও ১৫ দিন বেশি দেরি হতে পারে। যার অর্থ, মধ্যপ্রদেশের নতুন পেঁয়াজের জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। কলকাতায় পেঁয়াজের দাম কী হবে: ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজের চাষ হয় মহারাষ্ট্রে। দ্বিতীয় স্থানে কর্নাটক। এছাড়া গুজরাত, বিহার, মধ্যপ্রদেশ প্রভৃতি রাজ্য পেঁয়াজ উৎপাদনে সামনের সারিতে। উল্টোদিকে, পশ্চিমবঙ্গে অধিকাংশ পেঁয়াজ মহারাষ্ট্র, কর্নাটকের মতো রাজ্য থেকে আমদানি করা হয়। ফলে সেখানে দাম বাড়লে এ রাজ্যে তার প্রভাব পড়বে বলে ব্যবয়ায়ীদের অভিমত। এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট ।
from Business News in Bengali, Latest Bangla Business News, Financial News - Eisamay https://ift.tt/35j7s0L
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন