টেলিকম সংস্থাকে বার্তা শীর্ষকোর্টের - Get Breaking & Latest Bengali News Online

Breaking

শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২০

টেলিকম সংস্থাকে বার্তা শীর্ষকোর্টের

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতী এয়ারটেল ও ভোডাফোন আইডিয়া সহ দেশের টেলিকম সংস্থাগুলিকে লাইসেন্স ফি ও স্পেকট্রাম ব্যবহারের চার্জ বাবদ সরকারের পাওনা কতদিনে এবং কী ভাবে মেটাতে পারবে তার একটি পথনির্দেশিকা চূড়ান্ত করতে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, সরকারের পাওনা মেটাতে সংস্থাগুলির কত সময় লাগবে এবং এর জন্য তারা কী কী জামিন রাখতে পারবে সেটাও স্পষ্ট জানাতে হবে। এদিকে ভারতী এয়ারটেল ও ভোডাফোন আইডিয়া তাদের বকেয়া মেটাতে আদালতের কাছে আরও সময় চেয়ে আর্জি জানায়। তারা এও জানায় যে, আদালতের ঠিক করে দেওয়া চূড়ান্ত সময়সীমার মধ্যে বকেয়া না মেটাতে পারলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা যেতে পারে। আগামী বৃহস্পতিবার মামলার পরবর্তী শুনানি। তার মধ্যে ওই হলফনামা আদালতে জমা দিতে হবে। বেসরকারি টেলিকম সংস্থাগুলির কাছ থেকে এজিআর খাতে প্রাপ্য ১.৬৯ লক্ষ কোটি টাকা ২০ বছরের কিস্তিতে আদায় করার যে পরিকল্পনা কেন্দ্র আদালতে জানিয়েছে, তাতেও সংশয় প্রকাশ করেছেন বিচারপতি অরুণ মিশ্রর নেতৃত্বাধীন বিচারপতি এম.আর. শাহ ও বিচারপতি এস. আব্দুল নাজিরের বেঞ্চ। গত বছরের ২৪ অক্টোবর এজিআর নিয়ে রায় দিয়েছিল বিচারপতি মিশ্ররই নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ। সরকারের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে বলেন, টেলিকম সংস্থাগুলির কাছে একলপ্তে পুরো বকেয়া মেটানোর দাবি করা হলে টেলিকম পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কিছু সংস্থা একেবারে দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে। কিন্তু, ওই যুক্তিতে একেবারেই সন্তুষ্ট না হয়ে বিচারপতি মিশ্রর পর্যবেক্ষণ, ‘কুড়ি বছরে কী হবে কে বলতে পারে? এই মামলা ১৯৯৯ সালে শুরু হলেও এখনও তার যবনিকা পতন হয়নি।’ ভারতী এয়ারটেল এবং ভোডাফোন আইডিয়া তাদের অত্যন্ত বেহাল আর্থিক অবস্থার কথা জানিয়ে আদালতে আর্জি জানায়, এত বিপুল বকেয়া মেটাতে তারা অক্ষম। ভোডাফোন আইডিয়ার আইনজীবী মুকুল রোহতগি জানান, অপারেটরের কাছে সেরা সিকিওরিটি স্পেকট্রাম। আদালতকে তিনি বলেন, ‘লাইসেন্স ও স্পেকট্রাম নিলাম করা হয়। আমরা হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে তা কিনেছি। ফলে স্পেকট্রামের খাঁটি মূল্যই সেরা সিকিওরিটি হবে।’ তিনি জানান, মোট দাবি হিসাবে ৫০,০০০ কোটি টাকার সঙ্গে বাড়তি সুদ ও জরিমানার ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি দেওয়া সম্ভব হবে না। তাঁর যুক্তি, ‘কারণ, আমাদের কর্মীদের বেতন দিতে এবং খরচ সামলানোর মতো যথেষ্ট অর্থ আমাদের কাছে নেই।’ তবে এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট না হয়ে বিচারপতি মিশ্রর মন্তব্য, ‘ডিরেক্টরদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে শুরু করে কী কী সিকিওরিটি বাবদ দেওয়া সম্ভব তা খুঁজে বের করুন। অন্যথায় আমরা সময় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারব না।’ বিচারপতি মিশ্রর প্রশ্ন, ‘যদি কোনও সংস্থা ব্যবসা বন্ধ হয়ে গিয়ে লিকুইডেশনে চলে যায়, সে ক্ষেত্রে কী হবে? কে বকেয়া অর্থ মেটাবে? এ ব্যাপারে তাদের ডিরেক্টরদের ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দিতে কি টেলিকম সংস্থাগুলি রাজি?’ ভোডাফোন আইডিয়া আগেই জানিয়েছে, এজিআর খাতে সরকার কোনও রকম ত্রাণ না দিলে তারা ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হবে। সংস্থাটির কাছে মোট ৫৮,২৫৪ কোটি টাকা প্রাপ্য বলে কেন্দ্রীয় টেলিকম দপ্তরের হিসাব, যার মধ্যে ভোডাফোন আইডিয়া এখনও পর্যন্ত ৬,৮৫৪ কোটি টাকা দিয়েছে। ভারতী এয়ারটেলের কৌঁসুলি অভিষেক মনু সিংভি আদালতকে জানান, তাঁদের সংস্থার নিজেদের করা হিসাব অনুযায়ী, সম্পূর্ণ ১০০ শতাংশ বকেয়াই সরকারকে মেটানো হয়ে গিয়েছে এবং বাকি যা বকেয়া থাকবে তা সরকারকে জানিয়ে সংস্থা তা দিয়ে দেবে। ভারতী এয়ারটেলের কাছে ৪৩,৯৮০ কোটি টাকা দাবি করেছে টেলিকম দপ্তর, সেখানে সংস্থাটি এখনও পর্যন্ত দিয়েছে ১৮,০০০ কোটি টাকা। অন্য দিকে, টাটা টেলিসার্ভিসেসের কাছ থেকে মোট ১৬,৭৯৮ কোটি টাকা পাওনার মধ্যে কেন্দ্র এখনও পর্যন্ত পেয়েছে ৪,১৯৭ কোটি টাকা। টেলিকম লাইসেন্স ও স্পেকট্রাম ব্যবহার চার্জ বাবদ কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কাছে ৪ লক্ষ কোটি টাকার বেশি পাওনা দাবি করেছে কেন্দ্র। কেন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির কাছে এই দাবি করা হয়েছে, তা সরকারকে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের মতে, ভোডাফোন আইডিয়া ও ভারতী এয়ারটেলের মতো টেলিকম সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে আদালতের রায় ঘোষণার তিন দিনের মধ্যেই কেন্দ্র রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির কাছে এই খাতে বকেয়া মেটানোর দাবি জানায়। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে বিচারপতি মিশ্র প্রশ্ন করেন, কেন ৩০ বছর ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির কাছে এজিআর খাতে বকেয়া চাওয়া হয়নি। গেইল ইন্ডিয়া, অয়েল ইন্ডিয়া, পাওয়ারগ্রিড কর্পোরেশন, গুজরাট নর্মদা ভ্যালি ফার্টিলাইজার্স অ্যান্ড কেমিক্যালস ও ডিএমআরসি-র কাছ থেকে যথাক্রমে ১.৭২ লক্ষ কোটি, ৪৮,৪৮৯.২৬ কোটি, ২২,০৬২.৬৫ কোটি, ১৫,০১৯.৯৭ কোটি ও ৫,৪৮১.৫২ কোটি টাকা দাবি করেছে টেলিকম দপ্তর। ক্ষুব্ধ বিচারপতি মিশ্রর প্রশ্ন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির কাছে এই দাবি জানানোর অনুমোদন কে দিয়েছে? রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে এজিআর বকেয়া মেটাতে হবে না। এ ধরনের দাবি করাটা কোনও মতেই অনুমতি যোগ্য নয়।’ তাঁর সংযোজন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির কাছে আপনারা যে ৪ লক্ষ কোটি টাকা দাবি করেছেন, তা প্রত্যাহার করার অনুরোধ করছি। অন্যথায় আমরা কড়া ব্যবস্থা নেব। আমাদের রায়ের এটা সম্পূর্ণ অপব্যবহার করা হচ্ছে।’ টেলিকম দপ্তরের যে আধিকারিকরা এই পদক্ষেপের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি, কেন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির কাছে ওই বকেয়া দাবি করা হয়েছে তা হলফনামা দিয়ে কেন্দ্রকে জানাতে হবে।


from Business News in Bengali, Latest Bangla Business News, Financial News - Eisamay https://ift.tt/3cUutZR

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন