গৃহঋণে ৫% সুদের অফার, বেশি দাম পাওয়ার গ্যারান্টি নির্মাতাদের - Get Breaking & Latest Bengali News Online

Breaking

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২০

গৃহঋণে ৫% সুদের অফার, বেশি দাম পাওয়ার গ্যারান্টি নির্মাতাদের

কৌশিক প্রধান করোনা-লকডাউনে এ বছর অর্থনৈতিক মন্দা প্রায় অবশ্যাম্ভাবী। তার উপর পে-কাট, কর্মী ছাঁটাই। এই অবস্থায় আবাসন কিনতে ইচ্ছুক এমন ক্রেতাকে দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হচ্ছে। সরকারের থেকে কোনও আর্থিক সাহায্য না মেলায় কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছেন শহরের আবাসন নির্মাতারা। ক্রেতা টানতে তাই কেউ আবাসনের দামে নিশ্চিত অ্যাপ্রিসিয়েশনের গ্যারান্টি দিচ্ছেন, তো কেউ ফ্ল্যাট কিনলে ক্রেতাদের গৃহঋণের সুদে ভর্তুকির টোপ দিচ্ছেন। আবাসন নির্মাতাদের একটা বড় অংশ আবার গ্রাহকদরে প্রথম কয়েক বছর ফ্ল্যাট মেইনটেনেন্স ফি ছাড় দেওয়ার সুবিধা দিচ্ছে। কলকাতার রিয়েল এস্টেট নির্মাতা সংস্থা জৈন গোষ্ঠী যেমন একই সঙ্গে পাঁচ বছরের ফ্রি-মেইনটেনেন্স এবং গ্যারান্টিড অ্যাপ্রিসিয়েশনের (বাড়ি বিক্রি করার সময় বেশি দাম পাওয়ার নিশ্চয়তা) অফার নিয়ে এসেছে। জৈন গোষ্ঠীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ঋষি জৈনের ব্যাখ্যা, ‘আমরা রেডি-টু-মুভ এবং নির্মীয়মাণ প্রকল্পে এক থেকে তিন বছরের গ্যারান্টিড অ্যাপ্রিসিয়েশন দিচ্ছি। অর্থাৎ, কোনও ক্রেতা যদি আমাদের রেডি-টু-মুভ ফ্ল্যাট কিনে এক বছরের মধ্যে তা বিক্রি করতে চান, সে ক্ষেত্রে আমাদের গ্যারান্টি হল, তিনি যে দামে ফ্ল্যাট কিনছেন তার থেকে বেশি দাম পাবেন। যদি না পান, তা হলে আমরা ক্ষতিপূরণ দেব।’ ক্রেডাই বেঙ্গল সভাপতি নন্দু বেলানির সাফ কথা, ‘কেন্দ্রীয় সরকার তো আমাদের কোনও আর্থিক প্যাকেজ দেয়নি। এদিকে নির্মাতাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। ফলে, সকলের কাছেই ঘরে লক্ষ্মী আনতে একমাত্র ভরসা ক্রেতা। সবাইকেই বিক্রি বাড়াতে হবে। কিন্তু, ব্যবসায়িক কারণে কারও পক্ষেই কলকাতায় আবাসনের দাম কমানো সম্ভব নয়। কারণ, কলকাতায় আবাসন ইউনিটের গড় দাম প্রতি বর্গফুট ৪,০০০-৫,০০০ টাকা, যার ন্যূনতম ৬০ শতাংশই জমি কিনতে চলে যায়। ফলে, ক্রেতা টানতে আবাসন নির্মাতাদের নানাবিধ অফার আনতেই হচ্ছে।’ এর মধ্যে এমন সংস্থাও রয়েছে, যারা দামি ফ্ল্যাট কিনলে ক্রেতাদের গাড়ি উপহার দিচ্ছে। অনেকে জিএসটি ছাড় দিচ্ছে। ইমামি রিয়েলটি কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে তাদের ইমামি সিটি প্রকল্পের সমস্ত ইউনিট বিক্রি করতে ক্রেতাদের গৃহঋণের সুদের উপর ভর্তুকি দিচ্ছে। সংস্থার সিইও নীতেশ কুমার বলেন, ‘লকডাউনের পরে আমরা নকডাউন অফার এনেছি। তাতে কোনও ক্রেতা আমাদের প্রকল্পে ইউনিট কিনতে যদি গৃহঋণ নেন, সে ক্ষেত্রে তাতে তাঁর যত বছর মেয়াদি ঋণে সুদের হার যা-ই হোক না কেন, তাঁকে বছরে ৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। বাকি সুদের অর্থ আমরা গৃহঋণের সম্পূর্ণ মেয়াদকালের জন্যই মেটাব। পাশাপাশি, ওই প্রকল্পে ফ্ল্যাট কিনতে মোট দামের ৯ শতাংশ বুকিং বাবদ দিয়ে কোনও ক্রেতার যদি গৃহঋণ অনুমোদিত হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে তিনি ওই ফ্ল্যাটে বাস করতে পারবেন।’ ইমামি সিটি প্রকল্পে মোট ১,২৩৩টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ২০০-র মতো পড়ে থাকা ফ্ল্যাট বিক্রি করার জন্য ক্রেতা আকর্ষণ করতে পাঁচ বছরের ফ্রি-মেইনটেনেন্স অফারও দিচ্ছে সংস্থাটি। আবাসন বিক্রি করার জন্য ক্রেতা আকর্ষণ করতে ইডেন রিয়েলটি-র অফার আবার ভিন্ন। সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর আর্য সুমন্তের মন্তব্য, ‘সোলারিস সিটি শ্রীরামপুর ও সোলারিস জোকা প্রকল্প দুটিতে কেউ যদি ফ্ল্যাট বুক করেন, তা হলে এখন তাঁকে মোট দামের ১০ শতাংশ দিলেই চলবে। বাকিটা আগামী দু’বছর ধরে একাধিক কিস্তিতে মেটানোর সুযোগ রয়েছে। আর কেউ যদি ১০ শতাংশ বুকিং অ্যামাউন্টের থেকে বেশি ধরা যাক ৪০-৫০ শতাংশ টাকা দিয়ে দেন, সে ক্ষেত্রে তিনি ফ্ল্যাটের দামের উপর একটা ছাড় পাবেন।’ জৈন গোষ্ঠীর মতো একাধিক নির্মাতা সংস্থা ফ্ল্যাট বুকিং বাতিল করলে বুকিংয়ের অর্থ পুরোটাই ক্রেতাকে ফেরৎ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি, ‘নিউ নর্মাল’ পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল মাধ্যমে ফ্ল্যাটের ভার্চুয়াল ট্যুর থেকে তা নির্মাণের কোন পর্যায়ে রয়েছে, তার সমস্ত কিছুই একটি নম্বরে হোয়াটস্‌অ্যাপ পাঠিয়ে যাতে ক্রেতারা সুলুক সন্ধান করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে ২৪X৭ ভিত্তিতে ‘জৈন-ই’ পরিষেবা নিয়ে এসেছে জৈন গোষ্ঠী। এই ডিজিটাল পরিষেবার মাধ্যমে ক্রেতারা কোথাও না গিয়েই তাঁদের কাছ থেকে ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন বলে ঋষি জানিয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন প্রকল্প মিলিয়ে জৈন গোষ্ঠীর যে ৩০০-র মতো ফ্ল্যাট এখনও বুকিং বা বিক্রি হয়নি, তার সমস্তই চলতি অর্থ বছরে বিক্রি হয়ে যাবে বলে ঋষির আশা।


from Business News in Bengali, Latest Bangla Business News, Financial News - Eisamay https://ift.tt/2Uustkr

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন