
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফ্লু এবং এইচআইভি ড্রাগের ককটেলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সারে এমন দাবি আগেই করেছিলেন থাইল্যান্ডের চিকিৎসক ও ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা। এবার রাজস্থানের ডাক্তাররা দাবি করলেন, আক্রান্ত রোগীর উপরে একই সঙ্গে ম্যালারিয়া, সোয়াইন ফ্লু এবং এইচআইভি ড্রাগ প্রয়োগ করে দেখা গেছে সেই রোগী চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। সংক্রমণও নাকি কমছে ধীরে ধীরে।
রাজস্থানে এখনও অবধি করোনা আক্রান্ত দু’জন। তাঁদের মধ্যে একজন ইতালির পর্যটক। জয়পুরের সাওয়াই মানসিং মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তাররা বলেছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে ইতালির এক পর্যটক এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর নিউমোনিয়া ধরা পড়েছিল। শ্বাসের সমস্যাও ছিল। ওই রোগীর চিকিৎসার জন্য বিশেষ প্রটোকল তৈরি করা হয়। হাসপাতালের অভিজ্ঞ ডাক্তাররা নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করেন করোনা আক্রান্ত ওই রোগীর উপরে। আশ্চর্যের বিষয় হল, সেই রোগী এখন অনেকটাই সুস্থ। তাঁর সংক্রমণও কমছে ধীরে ধীরে।
কীভাবে চিকিৎসা করা হয়েছিল ওই রোগীর? ডাক্তাররা বলেছেন, প্রথমে ওই রোগীর উপরে ম্যালেরিয়ার ড্রাগ ক্লোরোকুইন প্রয়োগ করা হয়। এরপর দেওয়া হয় সোয়াইন ফ্লুয়ের ওষুধ। তারপর রোগীকে এইচআইভি ড্রাগ দেওয়া হয়। তিন ড্রাগের ককটেলে রোগী সাড়া দিয়েছে খুব দ্রুত।
ডাক্তার সুধীর ভাণ্ডারি
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চে এই চিকিৎসা পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন রাজস্থানের ডাক্তাররা। এসএমএস মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল ডাক্তার সুধীর ভাণ্ডারি বলেছেন, ইতালির যে পর্যটক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন তাঁর ফুসফুসের সমস্যা ধরা পড়েছিল, তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা গিয়েছিল, শরীরের তাপমাত্রাও বেড়ে গিয়েছিল অনেকটাই। এখন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। তবে এই তিন ড্রাগের ককটেলেই যে করোনা সারবে এমন নিশ্চয়তা নেই। ডাক্তাররা বলেছেন, এখনও অনেক পরীক্ষানিরীক্ষা বাকি। তারপরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে যে সোয়াইন ফ্লু, এইচআইভি ও ম্যালেরিয়ার ওষুধে করোনাভাইরাসকে রোখা যেতে পারে।
ডাক্তার সুধীর ভাণ্ডারি জানিয়েছেন, এসএমএস মেডিক্যাল কলেজেই গত কয়েক বছরে সোয়াইন ফ্লুয়ে আক্রান্ত অনেক রোগীকে সারিয়ে তোলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে সংক্রামিত রোগীর উপসর্গ অনেকটা করোনা সংক্রমণের মতোই ছিল। নিউমোনিয়া, শ্বাসের সমস্যা, শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া, অঙ্গ বিকল ইত্যাদি। তাই ওই রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ড্রাগ ওসেলটামিভিরই প্রয়োগ করা হয়েছে করোনা আক্রান্ত এই রোগীর উপরে। সেই সঙ্গে অ্যান্টি-ম্যালারিয়াল ড্রাগ এবং আরও দু’টি ড্রাগ প্রয়োগ করা হয়েছে রোগীর উপরে। তাতেই সাফল্য মিলেছে।
থাই চিকিৎসকরাও এমনই ককটেল ড্রাগের কথা বলেছিলেন।ওসেলটামিভির, লোপিনাভির এবং রিটোনাভির— এই তিন ড্রাগের মিশ্রণে তৈরি হয়েছিল সেই বিশেষ ওষুধ যা প্রয়োগ করা হয়েছিল করোনা আক্রান্ত ৭১ বছরের এক মহিলার উপরে। থাই চিকিৎসকরা দাবি করেছিলেন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নাকি সাড়া দিয়েছিলেন সেই রোগী। ভাইরাল জ্বরের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় ওসেলটামিভির। এইচআইভির চিকিৎসায় লাগে লোপিনাভির এবং রিটোনাভির লোপিনাভির এবং রিটোনাভির। এই তিন অ্যান্টি-ভাইরাল ড্রাগের মিশ্রণই কার্যকরী হয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন ডাক্তাররা।
from TheWall https://ift.tt/2U9XmcX
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন