করোনা রুখতে ক্লান্তিহীন শৈলজা, ছুটছেন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত  - Get Breaking & Latest Bengali News Online

Breaking

রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২০

করোনা রুখতে ক্লান্তিহীন শৈলজা, ছুটছেন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত 

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সোমবার সকাল ঠিক সাতটা। কেরলের স্বাস্থ্য দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিকের মোবাইল ফোন বেজে উঠল। তখনও ঘুম কাটেনি ওই আমলার। স্ক্রিনে ভেসে ওঠা নাম দেখেই মুহূর্তে ছুটে গেল ঘুম-ঘুম ভাব। ফোন তুললেন। উল্টোদিক থেকে গম্ভীর নারী কণ্ঠে প্রশ্ন এল, “রাজ্যে এখন করোনা সন্দেহে আইসোলেশনে থাকা মানুষের সংখ্যাটা ঠিক কত?” সরকারি আধিকারিক জবাব দিলেন, “ম্যাম….১২১!” বিরক্তির সুরে উল্টোদিক থেকে বলা হল, “সে কী! আপনি যে গতকাল দুপুরে আমায় বললেন ১৫১! হঠাৎ কী করে কমে গেল? আপনি ভুল তথ্য দিচ্ছেন। ভাল করে খোঁজ নিন। তারপর আমায় ১৫মিনিটের মধ্যে জানান।”

ফোন করেছিলেন কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেকে শৈলজা। সকাল সাতটা থেকে রাত একটা, কোনও কোনও দিন দুটো। ছুটছেন শৈলজা। আর এই মহিলাই করোনা রুখতে অনুপ্রেরণা তৈরি করছেন কেরলে। মন্ত্রী ছুটলে যা হয়, ছুটছে গোটা ব্যবস্থা। উদ্দেশ্য একটাই। রুখে দিতে হবে মারণ ভাইরাসের প্রকোপ। ঠেকাতে হবে মৃত্যু।
সকাল সাতটা থেকে ফোন করা শুরু করছেন দক্ষিণের বাম শাসিত এই রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিক থেকে জেলার আধিকারিকদের। রিপোর্ট নিচ্ছেন। পরামর্শ দিচ্ছেন। তারপর তথ্য পাঠিয়ে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে।
সকাল ন’টা নাগাদ বেরিয়ে পড়ছেন মন্ত্রী। কোনওদিন গন্তব্য হচ্ছে হাসপাতাল তো কোনওদিন নিজের দফতর। সকালের বৈঠক সেরে একএকদিন একএক জেলায় ছুটছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন নিজেই। যাতে বাড়তি বিড়ম্বনা না হয়। বিকেলের মধ্যে ফিরে আসছেন দফতরে। তারপর ফের বৈঠক। নতুন করে কেউ আক্রান্ত হলেন কিনা, যাঁরা আইসোলেশনে আছেন তাঁদের অবস্থা কী, দিনের আপডেট নিয়ে ফের পাঠিয়ে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে। রাত্রি ১২টা নাগাদ ফের বৈঠক করছেন দফতরে বসেই। সেটা সন্ধের পর থেকে রাত পর্যন্ত কী হল তার আপডেট নেওয়ার বৈঠক। গত ১৭দিন ধরে এটাই রুটিন কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর।
ভারতে প্রথম করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছিল কেরলেই। তারপর সংখ্যা বেড়েছে। এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৯। আইসোলেশনে রয়েছেন দেড়শর বেশি মানুষ। তাই তৎপর স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
২০০৬ সাল থেকে বিধায়ক শৈলজা। কিন্তু ২০১৬ সালে তাঁকে মন্ত্রিসভায় নিয়েই স্বাস্থ্যদফতরের দায়িত্ব দিয়ে দেন পিনারাই বিজয়ন। অনেকে বলেন, এমনি এমনি শৈলজাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ২০০৬ সালে শৈলজা ছিলেন বাম যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআইয়ের নেত্রী। সেই সময়ে কেরলের চারটি জেলায় চিকুনগুনিয়া ব্যাপক আকার নিয়েছিল। তখন নাকি শৈলজার ভূমিকা ছিল কিংবদন্তীর মতো। সরকারের পাশাপাশি গোটা সংগঠনকে নামিয়ে দিয়েছিলেন জেলায় জেলায়। দিনরাত এক করে ছুটে বেরিয়েছিলেন।
১৪বছর পর আরও বড় প্রকোপ। তা ঠেকাতে আরও বড় দায়িত্ব এখন শৈলজার কাঁধে। বয়স বেড়েছে। কিন্তু মহামারী রুখতে ক্লান্তিহীন শৈলজা।


from TheWall https://ift.tt/2IPMc8i

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন