
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ব জোড়া মহামারী নোভেল করোনাভাইরাস। আঁতুরঘর চিন। এখন সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে সিওভিডি-১৯ সংক্রমণ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জিনের গঠন বদলে আরও ভয়ঙ্কর সার্স-সিওভি-২ (SARS-COV-2)। বিশ্বজুড়ে ভাইরাস সংক্রামিতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দেড় লক্ষেরও বেশি। মৃত ৫,৬১৭। নতুন সংক্রামিতের সংখ্যা ৭০ হাজারের কাছাকাছি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) জানাচ্ছে, চিনে ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ছুঁয়েছে সাত লক্ষ। লন্ডনে ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে এক সদ্যোজাত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ইতালি, জাপান, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, বিশ্বের ১১৮টিরও বেশি দেশে জারি হয়েছে চূড়ান্ত সতর্কতা।
করোনাভাইরাস মহামারী বিশ্বের যেসব দেশ, রাজ্য, শহরে
চিন
চিনের ন্যাশনাল হেল্থ কমিশনের রিপোর্ট বলছে হুবেই প্রদেশ মিলিয়ে মূল ভূখণ্ডে করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা ছুঁয়েছে সাত লক্ষ। সিওভিডি-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৩,১৮৯। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে করোনার ছোবল থেকে বেঁচে ফিরেছেন ৬৫,৫৭৩ জন। ভাইরাস রোখার ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টায় চিনের ২০ জন বিজ্ঞানী। জানিয়েছেন, গত ৫০ দিনে ৪০ লক্ষ মানুষ বিশ্বের নানা দেশ থেকে চিনে এসেছিলেন। তাই সংক্রমণ মহামারীর জায়গায় চলে গেছে।

ইতালি
চিনের পরেই করোনা মহামারী ইতালিতে। ভাইরাসের সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ১,২৬৬ জন। মোট সংক্রামিত বেড়েই চলেছে ইতালিতে। সরকারি হিসেবে আক্রান্ত ১৭,৬৬০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসের সংক্রমণে ২৫০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে অন্তত ১ কোটি ৬০ লক্ষ জনকে।বিয়ে, জন্মদিন এবং শেষকৃত্যের কাজেও জারি হয়েছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। স্তব্ধ জনজীবন। খাঁ খাঁ রাস্তাঘাট। বিশেষ নির্দেশিকা জারি করে দেশের উত্তরাংশের একটা বড় অংশকে কোয়ারেন্টাইন করার ব্যবস্থা করেছে সরকার। বন্ধ থাকবে স্কুল-কলেজ, দোকান, বাজার, সিনেমা হল, হোটেল-রেস্তোরাঁ। বাড়ির বাইরে পা রাখতে পারবেন না লোকজন। সংক্রমণ এড়াতে আপাতত তিন সপ্তাহ গৃহবন্দি হয়েই থাকতে হবে জনসাধারণকে। সরকারি নির্দেশিকা অমান্য করলেই হবে জেল বা মোটা টাকা জরিমানা। মিলান ও ভেনিসে ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল হাব প্রায় তালাবন্ধ। সেখানে তৈরি হয়েছে কোয়ারেন্টাইন জোন।
ইরান
করোনা আতঙ্কে স্তব্ধ ইরান। মৃতের সংখ্যা ছুঁয়েছে ৬১১। ভাইরাস আক্রান্ত ১২,৭২৯। গত সপ্তাহে ইরানে মৃত্যু হয় সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খোমেইনির শীর্ষ উপদেষ্টা মহম্মদ মীর মহম্মদীর। ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশ বিষয়ক কমিটির প্রধান মজতুবা জলনৌরের আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছিল আগেই। তেহরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানাচ্ছে, ইরানি পার্লামান্টের অন্তত ২৩ জনের শরীরে মিলেছে করোনাভাইরাসের খোঁজ। ইরানের সরকারি কর্মকর্তাদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং পার্লামেন্ট অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়াতেও মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭০। আক্রান্ত ৮,০৮৬। নতুন ১৪৫ জন কোভিড-১৯ পজিটিভ। দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী পার্ক নেউং-হু জানিয়েছেন, দেশের নানা জায়গায় ১১৮ টেস্ট-সেন্টার খোলা হয়েছে। সংক্রমণ সন্দেহে আড়াই লক্ষের বেশি মানুষকে পরীক্ষা করেছে দেশের কোরিয়ান ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন।

স্পেন
১৫ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে স্পেনে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা ১৯১। ভাইরাস সংক্রামিত ৬,০২৩। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যানচেজ বলেছেন, আগামী ১৫ দিনের জন্য সমস্ত স্কুল-কলেজ, হোটেল, রেস্তোরাঁ, বার, সুপারমার্কেট বন্ধ থাকবে। বিশেষ বিশেষ এলাকায় তৈরি হবে কোয়ারেন্টাইন জোন। জরুরি বৈঠকের পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ব্রিটেন
করোনার আতঙ্ক হানা দিয়েছে ব্রিটেনেও। মৃত ২১, সংক্রামিত ১,১৪০। সংক্রমণের আশঙ্কায় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বস্টন ম্যারাথন। মারণ ভাইরাসের আতঙ্কে ব্রিটেনে রাস্তাঘাট-দোকানবাজার প্রায় জনশূন্য। ব্রিটেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাদিন ডোরিসের শরীরে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত তিনি। ভুগছেন শ্বাসকষ্টে। ভাইরাসের সংক্রমণ সন্দেহে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে শতাধিক মানুষকে। ব্রিটেনের একাধিক সুপারমার্কেট বন্ধ হযে গেছে। যেকটি খোলা আছে সেখানে অমিল মাস্ক, স্যানিটাইজার থেকে টয়লেট পেপার। ফাঁকা ওষুধের দোকানও। চড়া দামে বিকোচ্ছে জিনিসপত্র।

ফ্রান্স ও জার্মানি
ফ্রান্সে করোনার সংক্রমণে মৃত ৭৯ জন। আক্রান্ত সাড়ে তিনহাজারেরও বেশি। সংক্রমণ ছড়ানোর ভয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে প্যারিসের লুভর মিউজিয়াম। সরকারি সূত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ১০০ জনের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জার্মানি ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। সংক্রামিত ৩,৯৫৩। জার্মানিতেও জারি হয়েছে জরুরি অবস্থা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
মৃতের সংখ্যা ৫০ ছুঁইছুঁই। আক্রান্ত প্রায় ২০০০। নোভেল করোনাভাইরাসের চোখ রাঙানিতে বেশ কয়েকটি প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে মার্কিন প্রশাসন। আরও এক ধাপ এগিয়ে ইউরোপ থেকে আমেরিকায় প্রবেশের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভাইরাস সংক্রমণের ভয় চেপে বসেছে হোয়াইট হাউসেও। ডাক্তারি পরীক্ষা করাবার কথা ভাবছেন নাকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নিরাপত্তার স্বার্থে নিজেকে ঘরবন্দি করেছেন ইভাঙ্কা ট্রাম্পও।
এদিকে কানাডায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর স্ত্রী সোফি গ্রেগরি ট্রুডো। স্ত্রী, তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে তাঁর সরকারি বাসভবনে নিজেকে কার্যত কোয়ারেন্টাইনে রেখেছেন ট্রুডো। স্ত্রীর থেকে তিনিও সংক্রামিত হতে পারেন আর তাঁর থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে পার্লামেন্টের এমপি ও ট্রুডোর মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে এই আশঙ্কায় ‘সেল্ফ-আইসোলেশন’-এ কানাডার প্রধানমন্ত্রী। আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে কানাডার পার্লামেন্ট। কানাডাতে ভাইরাস সংক্রামিতের সংখ্যা অন্তত ১৩০। দেশে করোনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ফোনেই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলে সরকারি সূত্রে খবর।
from TheWall https://ift.tt/2QgZhvv
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন