
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের আতঙ্কে খালি করা হল বেঙ্গালুরুর ইনফোসিসের একটি বিল্ডিং। শুক্রবারই সংস্থার এক কর্মীর শরীরে COVID-19 ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে। তারপরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেঙ্গালুরুর ওই আইটি ফার্ম। খালি করে দেওয়া হয়েছে আইআইপিএম বিল্ডিং। করোনাভাইরাসের সংক্রমন রুখতেই যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে শুক্রবার সেকথা জানিয়েছেন বেঙ্গালুরু ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (আইটি মেজর)-এর প্রধান গুরুরাজ দেশপাণ্ডে। জানা গিয়েছে, এই আইআইপিএম বিল্ডিংয়েরই এক কর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
১৯৯০ সাল থেকেই বেঙ্গালুরুতে রয়েছে ইনফোসিস। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে এই আইটি কোম্পানির সুবিশাল ক্যাম্পাস। রয়েছে অসংখ্য বিল্ডিং। বছরের পর বছর ধরে রাতদিন কাজ চলেছে সেখানে। সম্ভবত এই প্রথমবারের জন্য একটি বিল্ডিং এভাবে ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে। তবে গুজরাজ দেশপাণ্ডে জানিয়েছেন এ নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা করার কোনও কারণ নেই। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতেই এই আইআইপিএম বিল্ডিং খালি করা হয়েছে। কর্মীদের নিরাপত্তার খাতিরে ওই বিল্ডিং সাফাই এবং পরিশুদ্ধ করার কাজ চলবে বলে জানানো হয়েছে। সংস্থার কোনও কর্মী যাতে এই সংক্রান্ত কোনও গুজব না ছড়ান সে ব্যাপারে অনুরোধ জানিয়েছেন দেশপাণ্ডে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ইতিমধ্যেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে ভারতে। প্রথমজন কর্নাটকের বাসিন্দা ৭৬ বছরের মহম্মদ হুসেন সিদ্দিকি। সূত্রের খবর তীর্থ করতে সৌদি আরব গিয়েছিলেন তিনি। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরার পর হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং হয় তাঁর। সেসময় শরীরে মেলেনি কোনও সংক্রমণের চিহ্ন। এর কদিন পরেই সর্দি-কাশি, উচ্চ রক্তচাপ এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন সিদ্দিকি। গত মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যু হয়। তখনই আশঙ্কা করা হয়েছিল যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধের। সিদ্দিকির মৃত্যুর পর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরিক্ষাতে সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়।
কর্নাটকের সিদ্দিকির পর গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার মৃত্যু হয়েছে দিল্লির এক বাসিন্দার। জানা গিয়েছে, পশ্চিম দিল্লির বাসিন্দা ওই মহিলার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। গত মাসে মৃতার ছেলে সুইৎজারল্যান্ড গিয়েছিলেন। সেখানেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন তিনি। ছেলের থেকেই মায়ের শরীরেও ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছিল। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ৯ মার্চ থেকে মহিলার অবস্থার অবনতি হয়। কোভিড-১৯ এর পাশাপাশি তাঁর নিউমোনিয়া হয়েছিল। তাঁকে আইসিইউ-তে রাখা হয়। ১৩ মার্চ তিনি মারা যান। ইতিমধ্যেই ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ৮২।
from TheWall https://ift.tt/2U3reb7
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন